Model Video-015
আব্দুল মুসরেফ খাঁনের সহযোগিতায় বিঞ্জান প্রদর্শন মডেল দ্বাদশ শ্রেনী পযর্ন্ত বিঞ্জান শাখায় পাঠরত ছাত্র ছাত্রীদের জন্য।। এই মডেল আপনি হাতে তৈরী করতে পারবেন।। তবে ইলেকট্রিক ব্যবহারে সাবধান অবলম্বন করবেন।। কোনো কিছু তে আবেগ নয় ধর্য সহকারে করুন হইতো আমার ডেমো দেখে আরো উন্নত মডেল তৈরী করতে পারবেন।।
আন্তরিক শুভেচ্ছা রইল।
তোমাদের সাফল্য কামনা করি।
ভবিষ্যতের ভারত গঠনের কারিগর তোমরা !
অবশ্যই আমাকে ফ্লো করতে ভুলবেন না !
ধন্যবাদ
আব্দুল মুসরেফ খাঁন
মডেল নং: 015
মডের বিষয় : "বেতার বিদ্যুৎ সঞ্চালন মডেল" (Wireless Power Transmission Model) বা অনেকে একে "টেসলা কয়েল জেনারেটর"
এই ভিডিওতে আপনি যে চমৎকার যন্ত্রটি দেখছেন, সেটির নাম মূলত "বেতার বিদ্যুৎ সঞ্চালন মডেল" (Wireless Power
Transmission Model) বা অনেকে একে "টেসলা কয়েল জেনারেটর"-এর একটি আধুনিক রূপ বলে থাকেন।
নিচে আপনার প্রশ্নের উত্তরগুলো সহজ বাংলায় দেওয়া হলো:
১. প্রজেক্টের নাম (Project Name)
এই প্রজেক্টটির নাম ওয়ারলেস পাওয়ার ট্রান্সমিশন সিস্টেম (Wireless Power
Transmission System)। এটি মূলত বিদ্যুৎকে কোনো তার ছাড়াই এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পাঠানোর একটি ক্ষুদ্র সংস্করণ।
২. এটি কীভাবে তৈরি করা যায়? (Construction)
এই মডেলটি তৈরি করতে প্রধানত নিচের উপাদানগুলো লাগে:
·
কপার কয়েল (Copper Coils): ভিডিওতে গোল করে পেঁচানো লাল রঙের তারগুলো হলো কপার কয়েল।
·
ট্রানজিস্টর বা আইসি (Transistor/IC): এটি বিদ্যুৎকে খুব উচ্চ ফ্রিকোয়েন্সিতে (High Frequency) রূপান্তর করে।
·
ব্যাটারি বা পাওয়ার সাপ্লাই: মূল শক্তির উৎস।
·
এলইডি লাইট (LED Lights): যা তার ছাড়া জ্বলে ওঠে।
·
চৌম্বকীয় রিং: মাঝখানের টাওয়ারটিকে ঘোরানোর জন্য বা শক্তি সঞ্চালনের জন্য ব্যবহৃত হয়।
তৈরির মূল প্রক্রিয়া: একটি সার্কিটের মাধ্যমে কয়েলে বিদ্যুৎ প্রবাহিত করলে তার চারপাশে একটি শক্তিশালী তড়িচ্চৌম্বকীয় ক্ষেত্র (Electromagnetic
Field)
তৈরি হয়। যখন আরেকটি কয়েল (যেমন ওই টাওয়ারের মাথায় থাকা লাইটটি) এই ক্ষেত্রের কাছে আনা হয়, তখন কোনো তার ছাড়াই সেখানে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়।
৩. এটি কী কাজে লাগে? (Applications)
বর্তমানে এটি বড় আকারে ব্যবহারের গবেষণা চলছে, তবে কিছু ক্ষেত্রে এখনই ব্যবহার হচ্ছে:
·
স্মার্টফোন চার্জিং: বর্তমানে অনেক মোবাইল "ওয়ারলেস চার্জিং" প্যাড দিয়ে চার্জ করা হয়, যা এই একই নীতিতে কাজ করে।
·
মেডিক্যাল ডিভাইস: শরীরের ভেতরে থাকা পেসমেকার বা অন্যান্য যন্ত্র চার্জ দিতে এটি ব্যবহৃত হতে পারে।
·
বৈদ্যুতিক ব্রাশ: অনেক ইলেকট্রিক টুথব্রাশ এই পদ্ধতিতে চার্জ হয়।
৪. বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা (Scientific Explanation)
এই প্রজেক্টটি বিজ্ঞানের "ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ইন্ডাকশন" (Electromagnetic
Induction)
নীতির ওপর ভিত্তি করে কাজ করে। বিজ্ঞানী মাইকেল ফ্যারাডে এই সূত্র আবিষ্কার করেছিলেন।
সহজ ব্যাখ্যা: ১. যখন নিচের কয়েলগুলোর মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ যায়, তখন সেখানে একটি অদৃশ্য চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি হয়। ২. এই চৌম্বক ক্ষেত্রটি যখন খুব দ্রুত পরিবর্তিত হয় (High Frequency oscillation), তখন সেটি পাশের অন্য একটি কয়েলকে (টাওয়ারের লাইট) স্পর্শ না করেই তার ভেতরে ইলেকট্রন প্রবাহ শুরু করে দেয়। ৩. ফলে কোনো তারের সংযোগ ছাড়াই দ্বিতীয় কয়েলটিতে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয় এবং লাইটটি জ্বলে ওঠে।
এই একই স্বপ্ন বিখ্যাত বিজ্ঞানী নিকোলা টেসলা দেখেছিলেন—যাতে সারা পৃথিবীতে তার ছাড়াই বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া যায়।
0 Comments